সুনামগঞ্জ জেলা ডটকম একটি তথ্যসমৃদ্ধ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেটি ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ—দুই মাধ্যমেই এটি সবার কাছে সুনামগঞ্জ জেলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, পর্যটন, খবর এবং ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এইচ. কে. মামুন, যিনি একটি আধুনিক ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে সুনামগঞ্জকে দেশ-বিদেশে পরিচিত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
আমাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট্য:
🔹 সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর তথ্য
🔹ডাক্তার ও হাসপাতালের তথ্য
🔹রক্তদান ও রক্তের খোঁজ
🔹গাড়ি ভাড়া ও লোকাল পরিবহন
🔹জরুরি নম্বর
🔹চাকরির তথ্য
🔹উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সুযোগ
🔹বাসের সময়সূচি, দর্শনীয় স্থান, ক্রয়-বিক্রয়, মিস্ত্রির খোঁজ 🔹 সুনামগঞ্জকে তথ্যপ্রযুক্তির আলোয় আলোকিত এবং সহজ করে দেওয়া। 🔹 ছবি ও ভিডিও গ্যালারি 🔹 স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিবরণ 🔹 ব্যবহারকারী বান্ধব ডিজাইন ও সহজ নেভিগেশন 🔹 নিয়মিত আপডেট ও বিশ্বস্ত তথ্য সরবরাহ
আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটনকে তুলে ধরা সময়ের দাবি। তাই আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ভিজিট করে সুনামগঞ্জকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ: ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ: ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে মেঘালয় পর্বতমালার পাদদেশে এর অবস্থান, যা একে দিয়েছে এক বিশেষ মর্যাদা ও মনোরম পরিবেশ।
ইতিহাস: মুক্তিযুদ্ধের ৫ নং সেক্টরের উপত্যকা
বাঁশতলা স্থানটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৫ নং সাব-সেক্টর: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৫ নং সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-সেক্টর। ডাউক সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল এই ৫ নং সেক্টর।
কমান্ডার: ৫ নং সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন।
শহীদদের সমাধি: পাহাড় ঘেরা বাঁশতলা এলাকায় এবং তার আশেপাশে মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই এই নির্জন স্থানে সমাহিত করা হয়।
স্মৃতিসৌধ নির্মাণ: বীর শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য এই স্থানে নির্মাণ করা হয় এই দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধটি।
শহীদদের কবর: এই স্মৃতিসৌধের পাশে সবুজ ছায়ায় সারি সারি করে ১৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি বা কবর রয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম-ঠিকানা জানা গেলেও অনেকে এখনো অজ্ঞাতনামা।
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ তাই কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার মর্মবাণী বহন করে চলেছে।
সৌন্দর্য: প্রকৃতির অপার দান
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
পার্বত্য পরিবেশ: স্থানটি তিন দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। এই সবুজ পাহাড়ের কোলে স্মৃতিসৌধের অবস্থান এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন আকাশ ছুঁয়ে থাকা বৃক্ষরাজি প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মনোরম দৃশ্য: স্মৃতিসৌধটি একটি টিলার ওপর অবস্থিত। চারপাশের গাছগাছালি এবং পাখির কিচির-মিচির আওয়াজ এক অন্যরকম শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঝকঝকে নীল আকাশ আর ঘন সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য মনকে ছুঁয়ে যায়।
চেলাই খালের স্লুইসগেট: স্মৃতিসৌধের কাছেই চেলাই খালের ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট বা পানির ব্যারেজ রয়েছে। পাহাড়ি ঝর্ণার মাঝে এর অবস্থান আলাদা এক সৌন্দর্য যোগ করেছে। এখানে ঠান্ডা ও স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটার সুযোগও রয়েছে।
জুমগাঁও: কাছেই টিলার ওপর রয়েছে পাহাড়ি জুমগাঁও বা আদিবাসী গ্রাম, যেখানে প্রায় ৩৬টি পরিবারের বসবাস। তাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
সব মিলিয়ে, বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ ইতিহাস ও প্রকৃতির এমন এক অপূর্ব মিশেল, যা দর্শনার্থীদের মনে দেশপ্রেমের গভীর অনুভূতির সাথে সাথে অপার প্রশান্তি এনে দেয়।
🛣️ কিভাবে যাবেন: 🚖 দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব মাত্র ৭-৮ কিলোমিটার। 🛵 অটোরিকশা, সিএনজি বা মোটরসাইকেলযোগে সহজেই পৌঁছানো যায়। 🛤️ দোয়ারাবাজার-লক্ষীপুর-চরগাঁও সড়ক হয়ে যাওয়া পথটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে যায়।
📸 ভ্রমণ পরামর্শ: 🌅 সকাল বা বিকেলে গেলে প্রকৃতির রূপ আরও মুগ্ধ করবে। 🏞️ আশেপাশে আরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানও দেখা যেতে পারে।
✨ বাঁশতলা শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি স্বাধীনতার গর্ব আর ইতিহাসের অনন্ত প্রতীক। 🇧🇩